ঢাকা | | | |

ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান: থ্যালাসেমিয়া ও বিরল রোগের জন্য জনসচেতনা ও ডেটাবেজ তৈরির প্রয়োজন

দেশে থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি দেশেরব্যাপী ডেটাবেজ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন, এই ডেটাবেজ ও রেজিস্টারটি তৈরি করা জরুরি যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ও তাদের পরিবারগুলো সনাক্তকরণ ও চিকিৎসার কাজে আরও সংযুক্ত হতে পারে। যদিও থ্যালাসেমিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মূল না করা সম্ভব নয়, তবে তাদের সান্তনা ও সমর্থন দিয়ে মানসিকভাবে সাহস দেওয়া অপরিহার্য।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে রমনা এলাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি আরও জানান, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। এই স্ক্রিনিং নির্ধারিত সময়ে করালে রোগ নির্ণয় সহজ হয়। যেকোনো বয়সে এই পরীক্ষা করা সম্ভব, ফলে রোগের সঠিক চিত্র জানা যায়। ডা. রহমান সকল স্তরের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতালে এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পক্ষেও তিনি আহ্বান জানান।

অতিরিক্তভাবে, তিনি বলেন, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী আদর্শভাবে প্রশিক্ষিত হতে পারবেন যদি তাঁদের থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে মূল জ্ঞান দেওয়া হয়। উপসর্গ, চিকিৎসা পদ্ধতি ও রোগীর মনোবল বাড়ানোর উপায় এ সব প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিৎ।

তাছাড়া, তিনি রোগীদের ক্যাটাগরি অনুসারে ভাগ করার প্রস্তাব দেন—যেমন, থ্যালাসেমিয়া মেজর, মাইনর ও ট্রেইট। চিকিৎসকদের সতর্কতা ও সংবেদনশীলতার মাধ্যমে রোগ পরিচালনা করলে রোগী ও পরিবাররা বেশ স্বস্তিতে থাকবেন এবং মানসিক চাপ কমবে।

স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রক্ত দান মানবিকতার এক অনন্য নিদর্শন। আমি আমার কন্যা জাইমা রহমানের প্রশংসা করি, যিনি সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।’ এ সময় তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ দিন ধরে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ও তাদের পরিবারের পাশে থাকা বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সকল সদস্যের অবদানকেও অমূল্য বলে প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।