যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশকে অর্থনীতি, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান চলাচল ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তির বিষয়ে তিনি বললেন, এটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ করবে এবং এইভাবে দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, এই চুক্তি একটি ‘কমন সেন্স’ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে উভয় দেশ তাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে পারস্পরিক সুবিধা অনুসন্ধান করছে।
বিমান চলাচল খাতে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা বিষয়ে তিনি বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে উড়োজাহাজ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ সরবরাহ, পাইলট প্রশিক্ষণ ও কারিগরি উন্নয়নে বাংলাদেশের বেসামরিক এভিয়েশন খাত আধুনিকায়নে সহায়তা করবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত জ্বালানি সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি প্রকল্প, শিল্পোন্নয়ন এবং জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণে সহায়ক হবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য অংশীদার।’
ক্রিস্টেনসেন আরও জানান, হাম ও টিকাদান প্রোগ্রাম, জরুরি সাড়া কার্যক্রমসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি বললেন, ১৭৭৬ সালে ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ এখনো বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘একক একটি পত্র এবং ৫৬ স্বাক্ষরে মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।’
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত প্রোগ্রাম থাকছে—যার মধ্যে রয়েছে গুলশান ও বনানীতে রঙিন থিমের ৫০টি রিকশা চলাচল, সেন্টার পয়েন্ট মলে ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ স্থাপন, এবং জুলাই মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের বিভিন্ন শহরে ‘অ্যামেরিকা উইক’ রোড শো।
তিনি বলেন, এসব উপক্রম বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন বন্ধুত্বের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনকে স্থির করছে এবং ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।









