ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মুহিত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চলমান উন্নয়ন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধির আব্বাএ বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থে স্বাস্থ্য সেবাকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রস্থলে রেখেছে। তবে এখনো দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই পকেট থেকেয দিতে হয়, যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি ঠেলে দিচ্ছে।

ড. এম এ মুহিত জানান, এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য সরকার ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি করছে। পাশাপাশি, সবার জন্য মানসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থসেবা, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা, এবং আধুনিক ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা এই সম্মেলনে তিনি ১৯ মে মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর সাথে ছিলেন আরও ছয়জনের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

এছাড়া, তিনি গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের নীতি-নির্ধারণী সভায় অংশগ্রহণ করেন যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সাথে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নীতিগুলি তুলে ধরেন।

তিনি ভবিষ্যতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, বলেছিলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের সমন্বয়, সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক সেবা আরও জোরদার করার ওপর কাজ করছেন তারা। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নানা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে বলেও জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে রোগের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রচুর চাপ পড়ছে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি এবং বাংলাদেশের সীমিত অবকাঠামো এই সমস্যা আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিমন্ত্রী এক্তরীয়ভাবে বলেন, বিশ্ব নেতাদের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থার দ্রুত চূড়ান্তকরণের আহ্বান জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়ন সংকট ও সংঘাতজনিত মানবিক সংকট মোকাবিলায় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার জরুরি। বিশেষ করে, অ্যান্টিমাইক্রোবাইকের কার্যকারিতা রক্ষা এবং আবশ্যক অ্যান্টিবায়োটিকের অবনমন প্রতিরোধে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরালো করতে হবে।