সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য এই সম্মেলন, ৭৯তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির আসর। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। তিনি দেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, নতুন সরকার দেশের উন্নয়নের মূল কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সেবাকে এনেছে। তবে এখনও অনেক মানুষ নিজের পকেট থেকে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের বেশিরভাগ টাকা দিয়ে থাকেন, যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ড. মুহিত উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ধাপে ধাপে সরকারি স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর রেফারেল সিস্টেম ও আধুনিক ডিজিটালাইজেশন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ মে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ড. এম. এ. মুহিত সম্মেলনের মূল অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন। তার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ করছে। মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের নিজস্ব সভায় অংশ নেন তিনি, যেখানে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক হয়। তিনি সরকারের চলমান স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখাও তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি ও বেসরকারি খাতের তথ্যের সমন্বয়, সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি ও আরও নানা পদক্ষেপ। এছাড়া, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। বক্তৃতায়, ড. মুহিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগের ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং দেশে বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বিশ্ব নেতাদের কাছে দ্রুত নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ন্যায্য ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থার চূড়ান্তকরণেও আহ্বান জানান। এছাড়াও, কম উন্নত এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়ন সংকোচন ও সংঘাতজনিত মানবিক সংকটের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ানো অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দেন। এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক স্ট্র্যাটেজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।









