ঢাকা | | | |

বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনাময় দিকগুলো ঢাকায় তুলে ধরেছেন চীনের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি জানিয়েছেন, এই সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দুদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করেছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফরগুলো এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সম্ভাবনা রুদ্ধিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন, যেমন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের পূর্ণ সহযোগিতা, বাংলাদেশের পণ্যসমূহের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি, দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনা, এবং রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে চীনের মধ্যস্থতার গুরুত্ব। তিনি সেমিনারে বলেন, চীন আন্তরিকভাবে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে, যাতে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি এবং পরিবেশের উন্নতি হয়।

এছাড়াও, বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল চীনের বিশাল বাজারে রপ্তানি করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, এই সুযোগের মাধ্যমে দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনসহ অন্য বাজারে প্রবেশের দ্বার খুলে গেছে।

সংযোগ ও ট্রান্সপোর্ট খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) উন্নয়নের পাশাপাশি, উচ্চগতির রেল চালুর বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগামী ট্রেন চালুর পরিকল্পনা বেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

অবশেষে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়েও চীন দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সংলাপের জন্য বেইজিং মধ্যস্থতা চালিয়ে যাবে, যাতে সবাই টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পারে। এই সব অগ্রগতি বাংলাদেশের জোট ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।