ঢাকা | শনিবার | ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

দেশসেবা ও সমুদ্রজয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের নৌবাহিনী গড়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ৪৪১ নাবিকের শপথ

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দেশপ্রেম, দেশসেবা ও সমুদ্রজয়ের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন করে শপথ নিলো ৪৪১ জন নবীন নাবিক। এ দিনটি ছিলো দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তারা জাতীয় পতাকার প্রতি গভীর আনুগত্য ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। ব্যাচের এই নবীন নাবিকেরা পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সমাপন কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, যিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং নবীনদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এই ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. শাহরিয়ার টুটুল সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা অর্জন করে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন, যা তার পেশাগত দক্ষতার প্রমাণ। অন্যরা যথাক্রমে ‘কমখুল পদক’, ‘শের-ই-বাংলা পদক’ ও সেরা মহিলা নাবিক হিসেবে ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার’ পদক পান। নবীনদের এই কুচকাওয়াজ অবসরপ্রাপ্ত ও চলমান বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনা ও নৌ কর্মকর্তাদের স্মরণে এক গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নৌবাহিনী প্রধান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদরা, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহিদ লে. কমন্ডার মোয়াজ্জম হোসেনসহ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আধুনিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি যোগ করা হয়েছে হেলিকপ্টার, আনম্যান্ড ড্রোন এবং হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজের মতো আধুনিক প্রযুক্তি। পাশাপাশি, মানবসম্পদ শক্তিশালী করতে দেশের শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ, এলসিটি ও অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে নৌবাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা এবং বড় নির্বাচনগুলো সফলভাবে পরিচালনায় নৌবাহিনী নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম এইসব দিকেও তিনি গুরুত্ব দেন।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের এপ্রয়োজনে প্রত্যেক সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। নবীন নাবিকরা পেশাগত জীবন শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি হিসেবে দেশসেবা ও সমুদ্রের নিরাপত্তার জন্য নিবেদিত থাকবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট অতিথি, নবীন নাবিকের পরিবারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বোপরি, এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নবীন নাবিকরা শুধু নিজেকে নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে প্রস্তুত হলো। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক নৌবাহিনীর শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিশ্চিত হলো।