চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের শাসনভার গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হার ৭০.৭৩ শতাংশ। এই তথ্য সম্প্রতি প্রকাশিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সাতটি বৈঠক থেকে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব, ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সে (আইবিসিএ) যোগদান এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন অন্যতম।
বিশেষভাবে, মন্ত্রিসভা জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করে।
আবার, বাংলাদেশ আইবিসিএ-তে যোগ দিচ্ছে বলেও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রালয় কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবের মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।
আইবিসিএ হলো একটি বৈশ্বিক জোট, যা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জোটের লক্ষ্য হল বাঘ, সিংহ, এবং লায়নসহ বিশ্বের প্রধান সাতটি বড় বিড়াল প্রজাতির সংরক্ষণ। বর্তমানে ২৪টি রাষ্ট্র এই জোটের সদস্য। মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিড়ালের বাসস্থান রক্ষা, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়। বিশেষ Posters হিসেবে, বাংলাদেশ সুন্দরবনের রেকর্ডহস্ত সংরক্ষণের জন্য স্বাভাবিকভাবেই এই জোটে যুক্ত হয়েছে।
অপর দিকে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম) এর জন্য খসড়া জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান (জিসিএম-ন্যাপ) অনুমোদিত হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।
বিশ্বে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ এই মডেলে অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে, এবং ‘জিসিএম’ সংক্রান্ত ধারণার উদ্ভবের মূল চেতনা এই দেশের। এ স্বীকৃতি স্বরূপ, ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন সংস্থায় (আইওএম) বাংলাদেশকে জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে ঘোষণা করে।
এমনকি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের এই প্রবৃত্তি আরও সুদৃঢ় করে তুলেছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কাজ চালানো হবে।









