ঢাকা | শুক্রবার | ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মির্জা ফখরুলের ভাষ্যে রবীন্দ্রনাথের সমস্ত সাহিত্যে দার্শনিকতা এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবনা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই দৃঢ়ভাবে বিচরণ করেছেন। তিনি এক বিশিষ্ট সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব, যাকে পুরো জীবন অধ্যয়ন করেও সব দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে জানানো সম্ভব নয়। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। যারা তাকে সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন, তাদের জ্ঞানগত ঘাটতি রয়েছে। তিনি শুধু কবি নন, একজন দার্শনিকও ছিলেন। আজ (শুক্রবার) নওগাঁর পতিসরে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরের কৃষকদের উন্নয়নের জন্য কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার ধারণা দিয়েছিলেন। সেই ভাবনাকে ধারণ করে বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংসদ হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্য দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রবীন্দ্রঅনুরাগীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি উপস্থাপন করেন। বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পতিসর ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ, অতিথি, সরকারি কর্মকর্তা ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা পতিসর কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেন। বিকেলের দিকে দেবেন্দ্র মঞ্চের কাছে আগের মতো ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। এই উৎসবের মাধ্যমে কবির স্মৃতিকে স্মরণ করে স্থানীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধি বাড়ছে।