বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন চীনের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। upcoming জুনে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরও এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। ইয়াও ওয়েন বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উচ্চ স্তর আরও দৃঢ় হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং দুটি দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা এই সম্পর্কের অগ্রগতির महत्वপুর্ণ সাক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে চীন সবসময় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অবদান তুলে ধরে ইয়াও ওয়েন বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ করেছে চীনা কোম্পানিগুলো, যার ফলশ্রুতিতে তৈরি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান। তিনি উল্লেখ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ছাত্রাবাস নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে।
অতিরিক্তভাবে, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিবহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য China’s আগ্রহের কথাও জানান তিনি। বাংলাদেশের জ্বালানি সেক্টে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় বেইজিং।
তিনি আরও জানান, দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আগেরচেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরই এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং বছর শেষে এই সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট দুই দেশের মধ্যে চলে।
এ ছাড়াও, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শিক্ষা ও সংস্কৃতিক সম্পর্কের উন্নতি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে ইয়াও ওয়েন বলেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানির সংকটের এই সময়ে চীন বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে চীন তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।
প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুত আসন্ন চীন সফর দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করে তুলবে।









