ঢাকা | | | |

পরিবেশ মন্ত্রীর চারণভূমি সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার আহ্বান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আজ মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ১৭) মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে প্রায়োরিটি হিসেবে চারণভূমির সুরক্ষা ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে খাস ও কমিউনিটি জমির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরাসরি বিস্তীর্ণ চারণভূমির দেশের মধ্যে নয়, তবে এর অর্থনীতি ও জীবিকার ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। ফসল কাটার পরে ব্যবহৃত কৃষিজমি, পতিত জমি, চরাঞ্চল, জলাভূমি ও রাস্তার পাশের ভূমি পশুচারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় 2 শতাংশ অবদান রাখে এবং বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত।

তিনি সত্মকে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ও ভূমি ব্যবহারের বিভিন্ন চাহিদার কারণে পশুচারণের জায়গা ক্রমবর্ধমানভাবে কমে আসছে, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা গুলিতে চারণভূমির অস্তিত্ব হ্রাস পেয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন খাস ও কমিউনিটি ভিত্তিক চারণভূমির মানচিত্রায়ন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা এবং ভূমি ব্যবহারে বিরোধ মেটানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বক্তব্যে জলাভূমি ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু ও পরিবেশগত গুরুত্বের কথাও 강조 করেন তিনি, যেখানে মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানি নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে আলাদা না করে, এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতেই হবে, যা জাতীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের উদ্যোগের সফলতার জন্য ধারাবাহিক অর্থায়ন এবং অঙ্গীকারের প্রয়োজন রয়েছে।