রাজধানীর গুলশানের বারিধারা এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ৭৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিদিশা সিদ্দিক নামে এক নারীকে আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই নারীর বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকর করতে আদালত জামিন অর্থাৎ মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আজ সকালে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার আইনজীবী জামিনের জন্য আপিল করেছিলেন, তবে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন। ফলে বিদিশাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বাসস’কে জানান, সাজা পরোয়ানা জারির পর রাতে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্টের কাছ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
প্রথমত, গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অর্থদণ্ডের আদায়ে যদি টাকা না মানা হয়, তবে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে। এর আগে ২০১৫ সালে হাজির হয়ে তিনি জামিন নিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তার জামিন বাতিল হয়।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এর একজন স্যানিটারি পণ্য আমদানী কারী ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে তিনি বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে, ৮০ লাখ টাকায় প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি হয় এবং ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেন।
বাদী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন, এবং পরে ফ্ল্যাটবই কেনার জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সরকার অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করার কথা ছিল, যা ২০০২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
বারবার চাপ দেওয়ার পরে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন, কিন্তু ২০০৫ সালে ৭৫ লাখ টাকার চেক দেন যা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরই ডিএসাইন হয়। ঘটনা তদন্তে জানা যায়, চেকের অর্থ পরিশোধ হয়নি।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালে বাদী মামলা করেন, যেখানে অভিযোগ আনা হয় অবৈধ লেনদেনের, অর্থ জালিয়াতি, এবং অপরাধমূলক আচরণের। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০০৯ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করে, এবং আদালত ২০১০ সালে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালীন সাতজন সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আজকের এই ঘটনাটি একটি বড় ঠকানোর ঘটনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য, যা পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।









