ঢাকা | | | |

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের নতুন উদ্যোগ

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালু হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপনকে একটি গৌরবময় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রম বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন ও এক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে দেশটি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বাগত জানাচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এটি একটি নৈতিক ও দায়িত্বশীল শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যেখানে নিয়োগদাতা একজন দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবেন, স্থানীয় ভাষায় প্রমিত চুক্তি হবে, এবং শ্রমিকদের কল্যাণ, ন্যায্য মজুরি, আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধার নিশ্চয়তা থাকবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলছেন, থাইল্যান্ডের জন্য দক্ষ শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, আর বাংলাদেশের কাছে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দক্ষ শ্রমিকের ভাণ্ডার। তিনি সরকারি রিক্রুটিং সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লইমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী পাঠানোর জন্য থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ পেশার পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ পেশার জন্যও বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়ার উপযোগিতার কারণে থাইল্যান্ড বাংলাদেশিদের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। তবে প্রয়োজন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী পাঠানো এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষা—এসব বিষয়েও তারা দুটি দেশ যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, বর্তমানে দেশটি চারটি দেশের সঙ্গে কর্মী নিয়োগে চুক্তি করেছে, তবে সম্প্রতি কম্বোডিয়ার সাথে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে নবীন কর্মী সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অগ্রাধিকার হিসেবে থাইল্যান্ড চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে ভিসার মেয়াদ শেষের পর অবস্থান, অন্য দেশে ট্রানজিট, মানবপাচারসহ কিছু উদ্বেগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী থাইল্যান্ডের প্রস্তাবের ইতিবাচক গ্রহণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সমাধান ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অচিরেই দুজনের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন, অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক ও যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ মাল্টিপেল কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই উদ্যোগ দুই দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দৃঢ় করতে পারে, যা বহুমাত্রিক সুবিধা এনে দেবে।