বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলা সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের বেশি কমানো সম্ভব হবে, বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি। তিনি আরও বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত ও সহজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বিশাল—প্রায় ৪৫ লাখ— যা বিচারব্যবস্থার উপর বৃহৎ বোঝা সৃষ্টি করছে। এই চাপ কমাতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার বিষয়েও তিনি অবহিত করেন।
উদাহরণস্বরূপ, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হয়, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে, যা প্রায় অর্ধেকের বেশি হ্রাস। অন্য আইনের মাধ্যমে, যেমন বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও বণ্টন সংক্রান্ত মামলায়ও উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। যৌতুক নিরোধ আইনে মামলার সংখ্যা ৬৭ শতাংশ কমে গেছে, যা মধ্যস্থতা কার্যক্রমের সফলতার অন্যতম প্রমাণ।
মন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধরণের উদ্যোগের ফলে প্রতিদিন আরও কম মামলা আদালতে জমা পড়ছে। তিনি বলেন, যদি এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এক বছরের মধ্যেই প্রায় ৪৫ লাখের বেশি বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি আদালতকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, যেখানে আপস বা মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেখানে দ্রুত মধ্যস্থতা ব্যবস্থার আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি অনেক কমে আসবে।
আলোচনায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, সরকার শুধু মামলার সংখ্যা কমাতেই চায় না, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও আগ্রহী। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাজুড়ে, বিশেষ করে কক্সবাজারে, যেখানে বড় পরিমাণ মামলার চাপ রয়েছে, দ্রুত এই প্রক্রিয়া চালুর জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, এই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেয়ার এক কার্যকর মাধ্যম। সরকারের নেতৃত্বে দেশের ১০ জেলায় এই কার্যক্রমের প্রারম্ভিক যাত্রা একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সহকারী জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ১০ জেলার মধ্যে রয়েছে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। এসব জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বিনিয়োগ ও মনোযোগ থাকলে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা উন্নত হবে, মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস পাবে। তিনি জনগণকে সচেতন করে তুলতে সাধারণ মানুষকে এই ধরণের মধ্যস্থতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
সংক্ষেপে, মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় দ্রুত এবং সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হবে, যা দেশের সুন্দর ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।









