রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটি দ্বারা মারধরের প্রতিবাদে রেলপথে অবরোধ শুরু করে। এই আন্দোলনের কারণে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন উপস্থিত হয়ে আটকা পড়েছে, যার ফলে হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
আটকা পড়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ঢালােরচর এক্সপ্রেস, ৫৭ কমিউটার, ১৬ মহানন্দা ও সিক্স ডাউন ট্রেন। বনলতা ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করে, আর ঢালােরচর এক্সপ্রেস রাজশাহী-পাবনা রুটে চলাচল করে।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও রেল ক্রসিংয়ে গাছের শেকড়, ব্রেঞ্চ, বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে অবরোধের চিহ্ন রেখে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইসাথে আরডিএ ওভারপাসের নিচে রাবি ও রুয়েটের মধ্যবর্তী এলাকায় লাল নিশান টানানো হয়েছে।
সকাল সাতটার পর থেকে ট্রেনগুলো থেমে থাকায় যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তি সইছেন। সাবিনা খাতুন নামে এক যাত্রী জানান, সকালে ট্রেন ছাড়ার পর থেকে এখানে আটকা পড়ে আছি। অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রী রয়েছে, যারা চিকিৎসা ও পরিবারের কাছে ফিরতে পারছেন না। গরমের মধ্যে তাদের অসুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কারণে সকাল ৭টা৫ মিনিটে বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থেমে যায়। অন্যান্য ট্রেনগুলো যথাক্রমে সকাল ৭টা৪০ মিনিটে সিল্কসিটি, ৮টা১০ মিনিটে ঢালােরচর এক্সপ্রেস, ৮টা৫৫ মিনিটে ৫৭ কমিউটার, ৯টা৩৫ মিনিটে সিক্স ডাউন, এবং ১০টার দিকে মহানন্দা ট্রেনও আটকা পড়ে।
শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, ট্রেনের টিকেট ছাড়াই অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছিল টিটি। ঘটনার সময় অভিযুক্ত টিটি ব্যক্তিকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে যাত্রীরা সময় মতো intervene করে তাকে প্রাণে রক্ষা করেন।
শিক্ষার্থীরা চার দফার মধ্যে উল্লেখ করেছেন— অভিযুক্ত টিটিকে দ্রুত সাময়িক বরখাস্ত ও আইনের আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, ও যানবাহন ও ট্রেনে হয়রানি বন্ধ করা। না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোরকান উদ্দীন বলেন, কাল রাতে ঢাকায় থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে ফিরছিলাম। দেখা যায়, টিটিরা টাকা আদায় করছে রসিদ না দিয়ে। আমি প্রতিবাদ করি, এ টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। এরপর পেছন থেকে আমার গলা ধরে নিয়ে যায় ৬-৭ জন টিটি, মারধর শুরু করে, ও খোদ চোয়ালে আঘাত করে। আমি চিৎকার করলে অন্য যাত্রীরা সহায়তা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট চেকাররা মারধর করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে। আমরা পরিস্থিতি বুঝে সমাধানের চেষ্টা করছি।
যদিও তারা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, বিস্তারিতভাবে চার দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আশা রাখছেন শিক্ষার্থীরা। এই পরিস্থিতি চালু থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।









