ঢাকা | | | |

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: কার্বন নির্গমণ কমিয়ে কার্বন ক্রেডিট বৃদ্ধি করবেন সংশ্লিষ্টরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আরও বেশি করে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের জন্য জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরকে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু জানিয়েছেন, এই বৈঠকে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, শিল্প ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নত করা, বন সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণের পরিকল্পনা গুরুত্বারোপ করেন। মাত্রই এই পদক্ষেপগুলোই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কার্বন ক্রেডিট সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্র তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্যভাবে চালু করতে হবে, যাতে তথ্যের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়। এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সুরক্ষিত সমন্বয় নিশ্চিতের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক মানের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে।

কার্বন ক্রেডিট হলো একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ সুরক্ষার আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে বায়ুমণ্ডলে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা দূরীকরণের বিনিময়ে একটি ক্রেডিট প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো একটি বাজারভিত্তিক প্রক্রিয়া যেখানে নির্দিষ্ট নিঃসরণ সীমা নির্ধারণ করে, তবে এ সীমা অতিক্রম করলে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা দেশের জন্য কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়। এতে করে বায়ুমণ্ডলের দূষণ কমানো ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। উন্নত প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কার্বন শোষণ করেও ক্রেডিট অর্জন সম্ভব, যা পরে এলাউড বা বেশি নিঃসরণকারী দেশ বা সংস্থাকে বিক্রি করা হয়।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।