বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোগের মূল অগ্রগতি হচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডসমূহের ধারাবাহিক সফলতা। এই সাফল্য দেশের প্রতিরক্ষা খাতে आत्मনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে এগিয়ে যেতে দেশের স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং ও নির্মাণ ক্ষেত্রে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
প্রতিপাদ্য হিসেবে, আজ বুধবার ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড বাংলাদেশের কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে কাজটি উদ্বোধন করেন, এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে।
এছাড়া, দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ডিইডব্লিউ লিমিটেডের নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে, দেশের আধুনিকায়ন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য অনন্য একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৩৮.৫ মিটার লম্বা, ৭.৯০ মিটার প্রস্থ, ২.৪৫ মিটার গভীরতা এবং ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি আরপিভি ঘণ্টায় ২৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম হবে।
প্রতিটি নৌযানে থাকবে উন্নত নেভিগেশন র্যাডার, জিপিএস, যোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এর মাধ্যমে, নদী ও উপকূলীয় এলাকা, মোহনাসহ সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে কার্যকর অভিযান পরিচালনা সম্ভব হবে, যা দেশের নিরাপত্তা, নজরদারি ও সফলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্প ডিইডব্লিউ লিমিটেডের নিজস্ব প্রযুক্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে, যা দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা ও জাহাজ নির্মাণে স্বদেশি সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন বহন করে। ভবিষ্যতে, আধুনিক জাহাজ ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে এই কারিগরি দক্ষতা অব্যাহত থাকবে, যাতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হয় এবং দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়।
আজকের খবর/ এমকে









