ঢাকা | বুধবার | ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জানান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে কোনো ভুল করেননি

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পরিষ্কারভাবে বলেছেন, রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে তিনি কোনো ভুল করেননি। তিনি বলেন, প্রথমে আমরা এই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছি এবং এ ব্যাপারে আমার মনে হয় কোনো ভুল হয়নি। ছয়টি শিশুর অবহেলায় মৃত্যু হওয়া মানে না যে, এই অবহেলা সহ্য করা যাবে বা নীরব থেকেও যাবে। এটি একদমই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘হামচিকিৎসা-সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা আনা অপরিহার্য। কোনো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান যদি অবহেলাবশত রোগীর জীবন নিয়ে চলে, তাহলে সেটি শুধুমাত্র অগ্রাহ্য করা যাবে না। দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের নিজেদের ভেতর থেকেই এই পরিবর্তন শুরু করতে হবে।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা একটি মানবিক ও মহৎ পেশা। রোগীর প্রতি দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা ছাড়া মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের উচিত রোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও মানবিক আচরণ করা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো করোনার মহামারি। এই সংকটকালেও দেশটির চিকিৎসক ও নার্সরা অসাধারণ সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবদানেই বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম মৃত্যু হার দেখাতে পেরেছে। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চিকিৎসকদের আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আর্জি জানান মন্ত্রী।

সরকারের স্বাস্থ্যবিমানে বিনিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেটে এই খাতে জিডিপির ১.০২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে, এবং দায় নির্ধারণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, হাসপাতালের একটি বদ্ধ কক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ছিল না এবং দীর্ঘ সময় কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি ছিল না। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।