ঢাকা | | | |

ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের বলার ভাষ্য

ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রবেশ না করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ডা. জাহেদ উর রহমান, যা তিনি এক বাৎচিত প্রতিবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, তিনি একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশনের সময় যখন তার সঙ্গে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং তার সময় বেশ লাগাতে হয়, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে এটি নিউনূতিপূর্ণ এবং অপ্রয়োজনীয়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের দল শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যাবেন, যাতে সরকার ও দেশের সম্মান নষ্ট না হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কখনোই চাননি এই ঘটনা কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বাহ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা সবসময়োপ্রথম হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, দেশের বাইরে বা কাছে কোনো দেশের সাথে কোনো অপ্রয়োজনীয় এনগেজমেন্ট বা কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান না যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব বা মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাননি, কারণ এটি দরকার পড়েনি। তিনি স্বাভাবিকভাবেই একজন শীর্ষ এশিয়ান কর্মকর্তার মতো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যান এবং তিনি নিজেকে স্বচ্ছ ও স্বচ্ছন্দ বলে মনে করেন।

তিনি আরও জানান, ইমিগ্রেশনের সময় তারা দেরি করছিল এবং কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা, পাশাপাশি হাই কমিশনারের অবস্থান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা ছিলেন। তারপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ‘এটা অনেক হয়েছে, আমি আর প্রবেশ করব না’। তিনি মূলত বলছেন, তিনি এই পদে থাকাকালীন দেশের সম্মান রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠলে, এই ঘটনা কি দুই দেশের সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করবে কিনা, তিনি বলেছেন, এটা উচিত নয়। এই আচরণ একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির স্বাচ্ছন্দ্যজনক প্রতিক্রিয়া, যার জন্য তিনি দায়ী নয় বলে মনে করেন। তার মতে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা করণীয়, তারা করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার ভারতের ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য রোববার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। তবে, ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি পেলেও, তিনি প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। এই সব ঘটনার মধ্যে, বাংলাদেশের হাইকমিশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে খবর দিয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।