ঢাকা | রবিবার | ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের স্থবিরতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মনে করছে যে বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট, বিনিয়োগে ধীরগতি, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পাশাপাশি গৃহস্থালী ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের ব্যয় কমেছে।

এসব তথ্য তুলে ধরা হয় ১৬ মে শনিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগে মন্থরতা, জ্বালানির অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক সূচকগুলো স্বল্পমেয়াদে দেশের প্রকৃত অবস্থা ও পরিবর্তনের সত্যতা যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারছে না। সেই কারণে ডিসিসিআই ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই)’ চালু করেছে, যা নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য সহায়ক হবে।

সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি পূরণে এবং অর্থনীতির পরিবর্তন মূল্যায়নে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ইপিআই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের মোট ৭৬২ জনের মতামত নেওয়া হয়, যার মধ্যে উৎপাদন খাতের ৩৩০ জন ও সেবা খাতের ৪৩২ জন অংশ নেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে কৃষিখাতে খাদ্য উৎপাদন কমছে, জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ছে, এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেবাখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের কাছে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, ভ্যাট হার কমানো ও লাইসেন্সিং ক্ষেত্রে হয়রানি কমানো।

সেমিনারে বক্তারা অর্থনীতিবিদ, প্রবাসী বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও তারা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় ডিসিসিআইয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সহ-সভাপতি ও সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।