ঢাকা | রবিবার | ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, চলচ্চিত্র শিল্পে বড় পরিবর্তনের আভাস

জাতীয় ঐক্য, স্বচ্ছতা ও সৃজনশীলতার বিকাশকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই, এবং সেই লক্ষ্যে চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল খাতকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশের ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকা জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ক্ষমতা অর্জনের জন্য আসিনি; আমাদের লক্ষ্য হলো দেশ ও সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।” এছাড়াও তিনি আরো বলেন, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পগুলো যেন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’, সেই শক্তিকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে শিল্পী, নির্মাতা ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের ওপর।

সরকার ছবি-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে সবাইের মতামত ও দেশের ঐক্যকে গুরুত্ব দেবে বলেও ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এর জন্য বিশেষজ্ঞদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ ও সমঝোতা অপরিহার্য, যাতে করে উচ্চমানের সৃজনশীলতা নিশ্চিত হয়।

চলচ্চিত্র শিল্পের সংস্কারের প্রসঙ্গে স্বপন জানান, নতুন গঠিত চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও জুরি বোর্ডকে সবার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া 받고 রয়েছে, যা সরকারের জন্য বড় এক নৈতিক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এসব বোর্ড গঠনে বিতর্ক থাকলেও এবার সংশ্লিষ্টদের সমর্থন পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত, তিনি আগামী অর্থবছরে চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান। পাশাপাশি, অনুদানের অর্থ দ্রুত সময়ে দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য কঠোর নজরদারির কথাও ঢের করেন।

দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়া এক বড় সংকট বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে একক সিনেমা হলগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং আধুনিকীকরণে।

আখের শর অবদান হিসেবে, এ অনুষ্ঠানে শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্রবোদ্ধা মঈনুদ্দিন খালেদকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম কচি, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালসহ অঙ্গনের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।