ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আসছে বড় কারখানা পুনরুদ্ধারের জন্য বিশাল তহবিল

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল চালুর প্রক্রিয়া চলছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাকে হয়, তাহলে চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এই তহবিল চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।

সোমবার (৪ মে), বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অনিবার্য কারণবশত বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানাগুলোর ঋণ পরিশোধে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলো এই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধন ঋণ পেতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানগুলো Maturity পর্যন্ত ঋণও গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। এই ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হতে পারে ১৩ শতাংশ, এবং এতে ভর্তুকি হিসেবে যোগ হতে পারে ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এই তহবিল চালুর জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ১ মে মহান মে দিবসের দিন শ্রমিক সংগঠন হিসাবে যুক্ত নেতারা এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের অধিকার এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তহবিল গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি এই প্রকল্পের নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। এতে রয়েছে চারজন নির্বাহী পরিচালক, ছয়জন পরিচালক, পাঁচজন অতিরিক্ত পরিচালকসহ আরও কিছু পদে কর্মকর্তারা। এই কমিটি কারখানা পুনরায় চালুর জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তার উপায় খতিয়ে দেখবে এবং একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতেও সক্ষম হবে।

ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর তালিকা এবং তাদের ঋণের বিবরণ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণধারী কারখানাগুলোর তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ কারখানাগুলোর তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিশেষত, যেসব কারখানার বাজার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোর সচল করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে, জুলাই মাসের আন্দোলনের মতো পরিস্থিতিতে বন্ধ হওয়া ভালো মানের কারখানাগুলোর পুনরাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ চলবে। এ জন্য, জাল-জালিয়াতি বা অর্থ পাচারসহ বড় ধরনের অপরাধে জড়িত না এমন কারখানাদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে সুযোগ দেওয়া হচ্ছे।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র বলছে, তিনটি মূল পরামর্শ এই প্রকল্পে গুরুত্ব পাচ্ছে— প্রথম, ঋণের নিয়মিত করে কারখানা সচলের জন্য ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিল করা; দ্বিতীয়, কারখানার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তহবিল সহায়তা প্রদান; এবং তৃতীয়, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা, যেমন কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ। এর পাশাপাশি, ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আচরণের ভিত্তিতে এই সুবিধাগুলোর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে, দেশের অর্থনীতিকে গভীরভাবে সুদৃঢ় করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার, যাতে বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত পুনরায় সচল হয়ে দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধার আসে।