ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকা ও ডাকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ঢাকা ও ডাকা দুই রাজধানীর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা একমত হয়েছেন। আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ নিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ সময় তারা সম্পর্ক উন্নয়নে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের এই অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়ে সেনেগাল এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকটি প্রশংসা করে। সফরকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৯৮১ সালের মার্চে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফর স্মরণ করা হয়, যা ছিল বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সফর। এ ছাড়া, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কেও সাধারণ ধারণা প্রদান করেন। দুই মন্ত্রী দ্রুত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনা সভা (এফওসি) আয়োজনের বিষয়ে একমত হন, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপ আরও জোরদার ও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা প্রসারিত হবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে যৌথ বাণিজ্য কমিশন গঠনের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, চামড়া, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়, পাশাপাশি কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফ্রিকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান প্রশংসা করেন এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষে ফোরামে ঢাকার সঙ্গে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া, দুই দেশ একে অন্যের রাজধানীতে আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সেনেগালে বাংলাদেশের মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা। পরে, তিনি স্থানীয় দৈনিক ‘লে সোলেইল’ ও সেনেগালের জাতীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য শেখানো সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি নারী কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।