ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর today

ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ। এই দিনে ঘটে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিক। তবে এখনো অবহেলার কারণে এই হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়নি। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশনা দেওয়ার পরেও পুলিশ সাক্ষী হাজির করতে পারছে না।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল বেলায়, কিছুই বুঝে ওঠার আগেই সাভারে নির্মাণাধীন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। চার্জশিট অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় প্রায় ১,১৩৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা। আহত হন শতাধিক শ্রমিক। এই বিপর্যয় দেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিশ্বজুড়ে এ ঘটনার প্রভাব পড়ে, এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মানহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই ট্রাজেডির ক্ষত আজও সরেনি।

রানা প্লাজা ধসের পর অন্তত হাজারো প্রাণের বলি হওয়ার ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে সিআইডি। ঢাকার জেলা জজ আদালতে এই মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। তবে একের পর এক আসামী বিচার প্রতিরোধে উচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করলে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকাই হয়। এরপর নানা জটিলতা পেরিয়ে আবারো মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।

রানা প্লাজা ধসের হত্যাকাণ্ডে ৫৯৪ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলেও, বর্তমানে মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে পুলিশের বারবার নির্দেশনা সত্ত্বেও তারা উপস্থিত হননি। আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি ৬ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিলেও, প্রমাণ ও সাক্ষীর অভাবে বিচারনা ঝুলে আছে।

অন্যদিকে, এই মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার আইনজীবী এখনও মনে করেন যে, তার klient নির্দোষ। তিনি দাবি করেন, তাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনাটির বিচারও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। আগামী ৩০ এপ্রিল মামলার নতুন সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকলে মামলা এগিয়ে যাবে।

এদিকে, শনিবার সকালে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তারা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন, পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর আজ্ঞা ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি প্রকাশ করেন।

সকালে এই ঘটনাটির গুরুত্ব উপলক্ষে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রানা প্লাজাের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।