ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপি জোট ৩৫ আসন ও জামায়াত ১৩ আসন সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে: ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৯৬টি আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি). এই গেজেটে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন এবং জামায়াত ১৩টি আসন পেতে পারে বলে আশা করছে কমিশন। এটি স্বাভাবিক কারণ, সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার জন্য প্রতি আসনে ছয়জন ভোটার নির্বাচিত সদস্য থাকতে হয়। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অনুরূপভাবে কোনো জোটের সাথে যুক্ত হয়ে এই আসনগুলো পেতে পারেন। তবে যদি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যোগ দেন, তাহলে আসনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

নির্বাচনের পর প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, মোট আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২১১টি আসন পেয়েছে, জামায়াত ৭৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। এভাবে, স্বতন্ত্র সদস্যরাও সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস একটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে, এই দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে, তারা অন্য দলের সাথে জোট করে বা সমর্থন দিয়ে এই আসনগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

অপরদিকে, কিছু আসনের পরিস্থিতি জটিলতায় স্থগিত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, এবং শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। এই সব পরিস্থিতির কারণেই সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা আপাতত পরিবর্তিত হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংরক্ষিত নারী আসন পেতে কমপক্ষে ছয়টি নির্বাচিত আসন প্রয়োজন। তবে দল করতে চাইলে জোটবদ্ধভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায়, যা কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে না।

ইসি জানায়, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সাধারণ নির্বাচন শেষে গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই আসনগুলোর নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে, অর্থাৎ চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে ভোটের আয়োজন করা হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোট দেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। প্রত্যেক নির্বাচিত দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না, তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট নেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরা নির্বাচিত হন।

আইন অনুযায়ী, শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যদের তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ইসিতে পাঠানো হয়। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ২১ কার্যদিবসের মধ্যেই দল বা জোট তাদের প্রার্থী তালিকা ইসিতে জমা দেয়। এরপর, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য শপথগ্রহণকারী সদস্যদের দলভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য হয়, যা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ভোটকেন্দ্রত্য সনাক্ত করা হয়। ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ ভবনে কেন্দ্রও স্থাপন করা হতে পারে।

যদি কোনো দল বা জোট তাদের প্রাপ্য নারী আসনে প্রার্থী না দেয় বা কম প্রার্থী দেয়, তাহলে ওই আসনের জন্য সরাসরি ভোট নেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে দল বা জোটের মধ্যে কোনো বণ্টন থাকবে না; সব দল বা জোট প্রার্থী দিতে পারবে।