আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হচ্ছে, যা মুসলিম সমাজের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সঙ্গে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আজ কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, নফল ইবাদত ও দান-সদকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, হিজরি ২৩ সালে সফর মাসের শেষ বুধবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ অসুস্থতার পর প্রথমভাবে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। এ দিন তিনি গোসল করে, সাহাবিদের সাথে শেষবারের মতো নামাজে ইমামতি করেন এবং তাঁর সুস্থতার খবরে সাহাবা ও অনুসারীরা আনন্দে মেতে ওঠেন। অনেকেই দান-খয়রাত করতে থাকেন। তবে পরদিন আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ১২ রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন।
‘আখেরি চাহার সোম্বা’ শব্দটি ফারসি ভাষার। এটি সফর মাসের শেষ বুধবারকে নির্দেশ করে। এই দিনটি উপলক্ষে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, দোয়া ও দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন।
মুসলিম ব্যক্তিত্বরা বিশ্লেষণ করেন, ইসলাম ধর্মে আল্লাহর রিজিক, ইবাদত ও মানবসেবার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এই দিনের ক্ষণগুলোতেও অনেকে নফল আমল ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন।
অপরদিকে, ইসলামি গবেষকদের এক অংশ মনে করেন যে, পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে আখেরি চাহার সোম্বাকে ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নত হিসেবে নির্ধারিত করা হয়নি। তারা আরও বলেন, এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও সহিহ সুন্নাহর অনুসরণ করা, যাতে কোনভাবেই তা অবৈধ বা অপ্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি হয়ে উঠতে না পারে।
পবিত্র এ দিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে থাকেন।
এছাড়া, আখেরি চাহার সোম্বার দিন থেকেই দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি পালিত হচ্ছে। তবে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণত স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এ দিনটি উপলক্ষে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনায় তাদের ইবাদত ও দোয়া অব্যাহত রেখেছেন।
আজকের খবর/এমকে









