ঢাকা | বুধবার | ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন নিয়ে বিভ্রান্তি বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ: বিজিবির স্পষ্ট ব্যাখ্যা

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি এবং কিছু সংবাদমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটির অস্পষ্ট বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের ভিত্তিতে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। বিজিবি তাদের ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, সম্মেলনের বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং বিশ্লেষণ অপূর্ণ এবং সংক্ষিপ্ত রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মূল চিত্র তুলে ধরছে না।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সম্মেলনে বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা তুলে ধরা হয়। এই এজেন্ডাগুলির আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের মূল প্রামাণিক দলিল হলো ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)’, যা বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালকরা স্বাক্ষর করেন।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়গুলো জরুরি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে, নিরীহ এবং অসস্ত্র বাংলাদের নাগরিকের প্রাণহানি রোধ ও সীমান্ত হত্যার সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামানোর বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও, পুশ-ইন, অবৈধ স্থাপনা, মাদক চোরাচালান, সীমান্তের সুরক্ষা, পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ আলোচনায় আনা হয় এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও এই জেআরডির ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়।

সাম্প্রতিক সভাপতি এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ বা অপ্রয়োজনীয় বলে ধরার অপপ্রয়াসকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, সীমান্ত সম্মেলনের কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে দর্শনীয় সাক্ষাৎ দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা।

দ্বিতীয়বারের মতো, ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনের সময়ও বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই সফরেও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল। এই নির্ধারিত আলোচনায় সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুর ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্তে হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার নির্মাণ, মাদকু ও মানবপাচার প্রতিরোধ, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তারা জনমত পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন আক্রমণকে তারা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা হিসেবে মনে করছে। বিজিবি আরও বলতে চেয়েছে, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্তের সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ সংবাদের বিকল্প নেই। সত্যতা নিশ্চিত না করে কোনও মতামত বা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা উচিত নয়।

সংস্থাটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের আনুকূল্যে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য।