জাতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং আরও ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে দেয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। এই সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুইটি সংশোধিত।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ অন্যান্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীন একটি বিশেষ প্রকল্প—‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়), করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ও কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধনী) প্রকল্প।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের (তৃতীয় সংশোধনী)’ প্রকল্পটিও আজকের সভায় অনুমোদন পায়।
এই পাঁচটি মূল প্রকল্পের পাশাপাশি, পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে আগে অনুমোদিত আরও চারটি প্রকল্পের ব্যাপারে অবহিত করা হয়, যার ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে। এই নীতিনির্ধারক প্রকল্পগুলো হল—বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ, নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজ সাভার স্থাপন, বিমান বাহিনী স্কুলের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ, ও প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপ্টিক শিক্ষার জন্য প্যাগোডা ভিত্তিক কার্যক্রমের চার্টার।
আজকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।









