ঢাকা | | | |

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ: গাইবান্ধা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে সমন্বয় জোরদার

গাইবান্ধা, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলাসমূহে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাসহ বিভিন্ন জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এই নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার প্রজ্ঞাপনের আলোকে আয়োজিত এক সভায়। সভায় এই তিন জেলায় পরিস্থিতির বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় বিষয়টি তাঁকে অবহিত করার নির্দেশ দেন যাতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো সরেজমিন দেখে বোঝার জন্য জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত উপজেলা পরিদর্শনের পরামর্শ দেন তিনি। কুড়িগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়েও তিনি পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন।

সভায় মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত অভিযান চালানো, কমিউনিটি পুলিশিং, মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি। নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায় মামলা, মোবাইল কোর্ট এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। এই সব কার্যক্রমে পুলিশ জরুরি ভূমিকা রাখছে।

আলোচনায় গুজব রোধে জনসচেতনতা ও যথাযথ ও দ্রুত তথ্য প্রচার করতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও তৎপরতা অব্যাহত রাখতে বলা হয়। ডিলার নিয়োগের জন্য দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ আসে। এছাড়াও নদীভাঙন, খাল খনন ও অন্যান্য সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিচ্ছন্নতা ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আরও দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে জেলার উন্নয়ন আরও দ্রুতগতিতে এগোবে। এই উদ্দেশ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা সফর করে উন্নয়ন ও জনসেবার পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন।

সভার আয়োজন জুম প্ল্যাটফর্মে হয়, যেখানে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।