ঢাকা | | | |

পরিবেশমন্ত্রী ডাকলেন টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত কার্যক্রমের আহ্বান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেছেন যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য সব দিক থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘কনফারেন্স অন নেভিগেটিং ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর এচিভিং এসডিজিএস: পলিসি, পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এসডিজি বা Sustainable Development Goals কোনো একক মন্ত্রণালয় বা সংস্থার একক প্রচেষ্টা নয়। বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামো। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে এসডিজি ১৩ (জলবায়ু পরিবর্তন) ও এসডিজি ১৫ (জঙ্গলের উন্নয়ন) খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব এসডিজির বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এর ওপর ভিত্তি করে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যেসব সূচক ২০৩০ সালের লক্ষ্য থেকে দূরে থাকতে পারে, সেগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করে কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। সম্পদসংকুল হলেও যেখানে বেশি অগ্রগতি সম্ভব, সেই খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

নীতিমালা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সমঞ্জস্য ও সংহতি জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল নতুন নীতি প্রণয়ন নয়, বরং বিদ্যমান নীতি, বাজেট ও কার্যক্রমগুলোকে একটি লক্ষ্য ও ফলাফলের দিকে সমন্বিতভাবে পরিচালিত করতে হবে। পরিবহন, শিল্প, জ্বালানি, নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি—সব খাতকে মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য পলিসি কোহেরেন্স ও কনভার্জেন্স অপরিহার্য।

এসডিজি উন্নয়নে অর্থায়ন শুধু সরকারি বাজেটে হেলান দিয়ে না থেকে, গ্রিন ফিন্যান্স, ক্লাইমেট ফিন্যান্স, ব্লেন্ডেড ফিন্যান্স ও প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টের মতো বিভিন্ন উৎসকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশের জন্য টেকসই উন্নয়ন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও দেখতে হবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০৩০ সাল যেন দূরে নয়। সামনের কিছু বছরই নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এসডিজি অর্জনের পথে অগ্রসর হবে। তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান দেশের নীতি, প্রতিষ্ঠান, বাজেট, তথ্য ও প্রযুক্তি—সব কিছুকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও ফলাফলের দিকে সমন্বিত করতে হবে। এসডিজিকে শুধু আন্তর্জাতিক রিপোর্টিংয়ের জন্য নয়, বাস্তব দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্ত ও কার্যকরী পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব দিচ্ছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন বুয়েটের প্রফেসর ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া।

আজকের খবর/এমকে