ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধ করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। কোরআন ও হাদিসে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ও তাদের সম্মানের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করো। এবং আল্লাহকে বেশি করে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো।” (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছি।” (সুরা বালাদ, আয়াত: ৪)।
এছাড়া কোরআনে উল্লেখ আছে, “সর্বোত্তম কর্মী সে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।” (সুরা কাসাস, আয়াত: ২৬)। ইতিহাসে দেখা যায়, সব নবী-রাসুল নিজ হাতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করেছেন। হজরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করেছেন, হজরত নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন, হজরত দাউদ (আ.) লোহার বর্ম তৈরি করতেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও শৈশবে ছাগল চরিয়েছেন ও পরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত নির্দেশ হলো, “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)। আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তাই যা খাও, তা খাও ও যা পরো, তা পরাও।” ঈমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্রমিকের উপর অযৌক্তিক কাজ চাপিয়ে দেয়াটা নিষেধ। প্রয়োজন হলে মালিক নিজেও শ্রমিকের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
হাদিসে কড়া সতর্কবার্তা রয়েছে, মজুরি আটকে রাখা বা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে। আল্লাহ তাআলা কুদসিতে বলেন, “কিয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেব; তাদের মধ্যে একজন হলো যে, শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে তার পারিশ্রমিক দেয় না।” (সহিহ বুখারি)
এক কথায়, ইসলামে শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক শোষণের নয়, বরং মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মান-সাধারণ দায়িত্ব। তাই সময়মতো শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং তাদেরকে মানবিক আচরণ করার ব্যাপারে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সচেতন হওয়া।









