ঢাকা | | | |

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা আমাদের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা লক্ষ্য করছি, যার ফলে ড্রেন, খাল ও জলাধারগুলো ভরে যাচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সবাইকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোতাবেক আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন- এর সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আরও প্রান্তিক ও টেকসই করার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালানো হবে। এর জন্য দুটি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে, যেখানে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও বৃক্ষরোপণের জন্য চারা সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভ্যাস পরিবর্তনে সময় লাগবে কিন্তু ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী এর ডাক দিয়েছেন, যে জাতি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, সে জন্য সরকার ও সাধারণ নাগরিক সমাজের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি গুরুত্বারোপ করেন, এলাকায় এলাকা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে, সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করার আহ্বান জানান। মীর শাহে আলম আরও বলেন, ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। এ জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাকিলা নার্গিস খান ও তার দলের সঙ্গে ঢাকা মশকনিবারণী দপ্তরের কার্যক্রমে সমন্বয় করার নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল, সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক চম্পা আক্তার তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং আরও বিস্তৃত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বুয়েটের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা আকবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. শাকিলা নার্গিস খান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস সহ স্থানীয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগে সরকার ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে।