স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের নগরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে হলে নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।
আজ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের উন্নয়নের প্রয়োজন বেশি গভীরভাবে অনুভব করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার দ্রুত নগরায়নের ফলে এখানে পুরনো ও নতুন সংস্কৃতির সমন্বয় দেখা যায়। অনেক মানুষ এখনো নিয়মিত জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধে অভ্যস্ত হননি। তাই একটি যথাযথ বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার জন্য নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।
মিনIMITERা বলেন, যখন মানুষ বুঝতে পারে যে নিয়ম ভঙ্গ করলে জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই আইন মানা শুরু করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা কিংবা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারির আওতায় চালকেরা ট্রাফিক আইন বেশি মানেন, কারণ তারা জানেন নিয়ম ভাঙলে জরিমানা গুণতে হবে। এই সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই উন্নত নাগরিক সমাজের ভিত্তি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকার সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় অপরিহার্য। সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ক্ষমতাবান ও দক্ষ করে তোলে তোলাও জরুরি।
বাল্যদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কেবল অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন আনাও জরুরি। গণমাধ্যম, সামাজিক প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নগরের বস্তি অঞ্চলের বাসিন্দা থেকে শুরু করে সব পেশাজীবীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বুঝাতে হবে।
মির্জা ফখরুল স্মরণ করেন, একসময় আমরা বুড়িগঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণ করতাম। নদীর পানি ছিল অত্যন্ত পরিছন্ন ও নির্মল। কিন্তু এখন নদীর অবস্থা খুবই ভয়াবহ, পানি দূষিত হয়ে গেছে এবং তলদেশে ছয় মিটার পুরু বর্জ্যের স্তর জমে রয়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি জানান, সরকার নদী রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তুরাগ নদী উদ্ধারেও কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঢাকার ভবিষ্যৎ টেকসই ও সুন্দর করতে নদীগুলোর সুস্থতা অপরিহার্য।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাচ্ছে, তাই সরকার বিকল্প উৎস থেকে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। Mেঘনা নদী থেকে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের একটি প্রকল্প প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি শেষ কথায় বলেন, যদি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা যায়, তাহলে ঢাকা পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নতি করবে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে সমাজের এক πολλά গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।









