বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীগণের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি গতকাল (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আর ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উভয় দেশ এই বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। জানুয়ারিতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এবং নতুন নেতৃত্বের নির্বাচন শুরুর বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের সরকারের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই দীর্ঘসময় ধরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ব্যবস্থা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা, অনিয়মিত অভিবাসীদের পুনর্বাসন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও শিথিল করার অনুরোধ জানান। এছাড়া, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন বিষয়গুলোতে দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতিমধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় তিনি দুই দেশের মধ্যে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়েও গুরুত্ব দেন, যা দ্রুত বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি পাওয়ায় ভিয়েতনামকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের ওষুধের মানসম্পন্ন সরবরাহের কথা উল্লেখ করেন এবং কম খরচে এর আমদানির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান তিনি, যাতে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পরিবেশের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও, আসিয়ান-এ বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া ও রিজিওনাল কন্টেক্টে (আরসিইপি) সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভিয়েতনামের সমর্থন কামনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।









