ঢাকা | | | |

সংসদের প্রস্তাব: ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে সংসদে একজন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির উদ্দেশ্যে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব জানান। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অপ্রদর্শিত অর্থ, মানিলন্ডারিং এবং কালো টাকা উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হবে। এর পাশাপাশি তিনি দেশের অতিরিক্ত ব্যাংক সংখ্যা কমানোরও আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং জনগণের টাকা অনিরাপদ করে তুলছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এমপি বা নেতা হিসেবে অতিরিক্ত ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি লাগানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, কারণ এতে দেশের অর্থনৈতিক সুবিধা হয় না।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালীন তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ব্যক্ত করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে ঘরে নগদ অর্থ রাখছেন, এমনকি যারা দেশের বাইরে চলে গেছেন তারাও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে রাখছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এই অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকে জমা পড়বে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়ন হবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থের স্বচ্ছ প্রবাহ নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা তাদের টাকার বৈধ উৎস দেখাতে পারছেন না, তারা নির্দিষ্ট হার—২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর দিয়ে টাকা বৈধ করতে পারবেন। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে ফিরে আসবে, যা বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

অতিরিক্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে খোকন বলেন, দেশজুড়ে অনেক ব্যাংক থাকা যেন একটি দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এমপি বা নেতা হিসেবে অতিরিক্ত ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি প্লেস করা এক ধরনের সংস্কৃতি। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে ও ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর আর্জি জানান তিনি।

অর্থপাচার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরতে চাইছে বলে বারবার বলা হলেও বাস্তবে খুব কম অর্থই ফিরে এসেছে। তার মতে, অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানে চলে যায়। তাই শুধু পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারই সমাধান নয়, একটি এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষ বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেশে অর্থ রাখতে চাইবে।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজেট তৈরি করা হয়েছে কষ্টকর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে। সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক ও যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তবে সবচেয়ে জরুরি বলেও মনে করেন, আইনশৃঙ্খলার স্থায়ী উন্নতির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে।

উল্লেখ্য, এই প্রস্তাবের সঙ্গে ভারতের ২০১৬ সালে মোদি সরকারের নোট বাতিলের উদ্যোগের মিল আছে। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অপ্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটের বৈধতা বাতিল করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মোট নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ এই দুই নোটে ছিল। এর লক্ষ্য ছিল কালো টাকা, জাল নোট ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াই ও নগদভিত্তিক অর্থনীতিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা। বিষয়টি অন্যদিকে প্রভাব ফেললেও, পরবর্তী সময়ে প্রায় ৯৯ শতাংশ বাতিল নোট ব্যাংকে জমা পড়ে, যা কালো টাকা উদ্ধারে যথেষ্ট ছিল না বলে মতামত রয়েছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের।