রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে পুনরায় একসঙ্গে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। আজ সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে একমত হন।
উভয় দেশ এ বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, এই সংকটের মূল কারণ সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ভবিষ্যতেও আসিয়ানের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।
দুজন নেতা শ্রমবাজার ও অভিবাসী শ্রমিকের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা স্বীকার করেন, মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ ছাড়া, নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ 하োয় এবং শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জোর দেন তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বিদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ার জন্য অমূল্য সম্পদ, তবে তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আরও জরুরি। তিনি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ ব্যবস্থার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানও একমত পোষণ করে বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু নিয়োগকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তিনি অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধকরণ এবং প্রয়োজনে তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা করেন।
দুই দেশ সম্মত হয়েছে, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সহযোগিতা জোরদার করবে।
মানবিক ও শ্রম বিষয়ক সহযোগিতার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—দুই দেশ দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি ও উচ্চমূল্য সংযোজনের শিল্পখাতে সহযোগিতা আরও বিস্তার লাভ করবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি বন্ধুবৎসল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদেরকে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, জ্বালানি, হালাল শিল্প, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান। তিনি মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে, বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) এ অংশগ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। মালয়েশিয়া এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
তাদের পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে দুই নেতা পারস্পরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। সংবাদের শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকের আলোচনা বাংলাদেশের ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।









