ঢাকা | শুক্রবার | ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দে বড় ধরনের বৃদ্ধি, ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বাড়ল

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বেশি। এর আগের অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে, প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট ছিল ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকায়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করা হয়, যার মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে এই বাজেটের বড় অংশ, যেখানে প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এছাড়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সার্ভিসের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

এদিন বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট ঘোষণা করবেন, যা হবে দেশের ৫৫তম বাজেট। এ বাজেটটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট বলে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে, মোট বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে, আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে বিশাল আকারের ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক, উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা তোলা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ও সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটটি জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া, বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাবে এবং এরপর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এর সম্মতি ও স্বাক্ষর করবেন। নতুন এই অর্থবছর ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।