ঢাকা | শনিবার | ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পরিবেশ দিবসে ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

পরিবেশ দিবসের উপলক্ষে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শতাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক এতে অংশগ্রহণ করেন। মিশন গ্রীন বাংলাদেশ নেতৃত্বে এই কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ‘গাছ লাগাই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’। আজ (৫ জুন) বিভিন্ন জেলায় দিনভর নানা ধরনের এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতা (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি-থ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই)।

আলোচনার পাশাপাশি এই কার্যক্রমের ট্র্যাকিং ও মনিটরিংয়ের জন্য রয়েছে সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল) এবং রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরও শতাধিক পরিবেশবান্ধব সংগঠন।

বিশেষ করে, বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসত বাড়ি ও দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সুযোগ থাকা স্থানগুলোতে স্থায়ী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালানো হয়। সেই সঙ্গে দারিদ্র্য সীমান্তের পরিবারের মধ্যে ফলজ ও বনজ গাছ উপহার বিতরণ করা হয়, যেখানে প্রত্যেক পরিবারকে অন্তত দুইটি গাছ দেওয়া হয়।

এছাড়াও দেশের জেলা শহর ও জনসমাগমস্থলগুলোতে পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, “বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে চাইলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষা করতে শুধু গাছের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, গাছ সংরক্ষণের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিও এখন অত্যন্ত জরুরি।”

সি-থ্রিইআর’র ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আইনের গবেষণার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

ক্যাপস’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ৬৪ জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বেলা’র পলিসি ও ক্যাম্পেইন কোঅর্ডিনেটর বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, “পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এই উদ্যোগ নাগরিকদের আরও দায়বদ্ধ ও সচেতন করে তুলবে।”

মিশন গ্রীন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, “এই কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানোর উদ্যোগ নয়, বরং সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশের এক আন্দোলন। বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশই রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”