ঢাকা | মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্টে ৮০% ছাড়, চিকিৎসকের ফি সম্পূর্ণ মওকুফের নির্দেশ

মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় এবার ঋতুর আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে, বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ফি (ভিজিট) সম্পূর্ণভাবে মওকুফের নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এটি যেন সাধারণ মানুষ আরও সহজে ও স্বস্তিতে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো অবস্থাতেই যেন অপ্রয়োজনে ওষুধ প্রয়োগ না হয়, সেই নিশ্চয়তা দিতে সরকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। ৫ জুন মঙ্গলবার, সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, প্যাথলজি ল্যাব, বেসরকারি হাসপাতাল এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়। সভায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যার অভাব ও চিকিৎসা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সংকট এড়াতে দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে দামে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারেন, এজন্য টেস্ট ফি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছ থেকে কোনো কনসালটেন্সি বা পরামর্শ ফি নেওয়া যাবে না। রোগীরা শুধু প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও বলেন, যেন যথাযথ নিয়ম মেনে ওষুধের ব্যবহার করা হয়। করোনা মহামারির সময়ের মতো যেন অপ্রয়োজনে ওষুধ ও চিকিৎসা না দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ডেঙ্গুর কোনও ভ্যাকসিন এখনও সার্বজনীন বা চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়নি, এই কারণেই বাংলাদেশে এ ধরনের পরিকল্পনার নেই। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার আগেভাগেই মশা নিধনে ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। যদি এই নির্দেশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।