ঢাকা | শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দের খবর

সাইপ্রাসে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন এক সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। এই জব্দের ঘোষণা এসেছে চলমান এক আন্তর্জাতিক ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ সরকারের আবেদনক্রমে দেশটির নিকোসিয়া জেলার আদালত এ আদেশ জারি করেছে।

শুক্রবার (২৮ মে) সাইপ্রাসের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘সাইপ্রাস মেইল’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯ মে সাইপ্রাসের অর্থপাচারবিরোধী ইউনিটের (মোকাস) আবেদন অনুযায়ী এই সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়। জব্দ হওয়া সম্পত্তিটি সাইপ্রাসের পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দুইতলা ভবন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই ব্যবসায়ী দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানি ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই তদন্ত চালাচ্ছে সাইপ্রাসের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। প্রধান এই অভিযোগগুলো হল—প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আন্তর্জাতিক অর্থপাচার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সম্পত্তির জব্দের এক দিন পরেই বাংলাদেশে একটি বড় ধাক্কা লেগেছে এস আলমের জন্য। ইসলামি ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি) ঋণ নিয়ে ১৩৪টি বাস না কিনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশের একটি আদালত সাইফুল আলম ও তাঁর ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীর পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন।

তদন্তের পরিধি এখন শুধুমাত্র এই একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইপ্রাসের পাঠানো চিঠিতে জানা গেছে, সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যার বেশিরভাগই পরে খেলাপি হয়ে গেছে। তদন্তকারীরা এখন দেখছেন, এই ঋণের অর্থ কি বিভিন্ন দেশের জটিল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই চক্রটি দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো (৮০০ কোটি ইউরো) বেশি অর্থ পাচার করেছে। বাংলাদেশি তদন্তকারীদের ধারণা, এই অর্থের একটি বড় অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রিয়েল এস্টেট ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এখনো তদন্ত চলছে এবং পুরো ঘটনাগুলোর সত্যতা পুরোপুরি উদঘাটন করা হচ্ছে।