স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর মনোভাবেপ্রকাশ করেছে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রেখেছে, যেন কোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক বা চাঁদাবাজি ঠাঁই পেতে না পারে। অতীত সরকারের ১৭ বছরের দুর্নীতিমূলক অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সে ‘ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি। তিনি মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মূল মনিটরিং সেলটি বিশেষভাবে শক্তিশালী ও কার্যকর করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত প্রতিটি মহাসড়ক, পশুর হাট, যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ সব এক্সপ্রেসওয়েতে নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যদের বডি ও ওয়ার্ন ক্যামেরা দিয়ে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কম হয়েছে। তবে কিছু দুর্ঘটনা ব্যক্তিগত গাফিলতি বা অসচেতনতামুলক ঘটনার কারণেই হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের পরিস্থিতি নিয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেন, নওগাঁর একটি লোহার রড ট্রাকের ছাদে ওঠা মানুষদের ঘটনা। এর কারণ ছিল ভাড়া বাঁচানোর ঝুঁকি, যা ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সেই জন্য তিনি নাগরিকদের আরো সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্নীয়ভাবে বলেন, বৈধ পশুর হাটের বাইরে অবৈধ বাজার তৈরি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রোরেলের নিচে গড়ে ওঠা অবৈধ হাটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল নোটের ব্যবহার রোধে ব্যাংক ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে জাল নোট শনাক্তকারী যন্ত্রের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও র্যাবের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারির দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসীরা যে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলো, তাকে মূলত যৌথ অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। এই অভিযানে প্রচুর অস্ত্রসহ দাগী আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশ একাডেমি, র্যাব একাডেমি, পুলিশের স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও কারাগার নিয়ে একটি সমন্বিত ‘নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং সরকার অতি শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের সামনে এগুলো দৃশ্যমান করবে।
আরো জানানো হয়, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। এ সমস্যা সমাধানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে ডিজিটাল অটোমেশন চালু করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যাতে টোল গ্রহণের এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়। এর মাধ্যমে সাময়িক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, উৎসাহিত করার জন্য কিছু ইনসেনটিভের পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে।
আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সাভারে মাদক ব্যবসা ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি কেউ জড়িত থাকেন, কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত তিন মাসে যেসব অপরাধের সঙ্গে যুক্তরা ধরা পড়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









