ঢাকা | রবিবার | ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

পৌনে দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিকে আধুনিক ও ডিজিটাল সুবিধায় রূপান্তর করতে চলেছেন সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির এ যুগে যারা সরাসরি লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার সুযোগ রাখেন না, তাদের জন্য লাভজনক ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তারা ডিজিটাল মাধ্যমে লাইব্রেরির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা থেকে বই পড়তে পারবেন। আজ শুক্রবার, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সহযোগিতায় লাইব্রেরি চত্বরে তিন দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বইয়ে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নতুন প্রজন্ম ও সন্তানদের বইমুখী করতে চান। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি স্থানীয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাথে আলোচনা করেছেন, যাতে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরে আসে। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করে এর দুর্লভ সংগ্রহসমূহ দেখেন এবং এর উন্নয়নের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির দেশব্যাপী খ্যাতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। তবে, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে বর্তমানে বইবিমুখতা বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ভাল লেখালেখি ও মেধার বিকাশের জন্য বই পড়া অপরিহার্য। বই পড়ার মাধ্যমে ভাষার দক্ষতা ও শব্দভাণ্ডার বাড়ে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী যশোরের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শহরের ঐতিহাসিক বিসরকার মেমোরিয়াল হলে, ঘূর্ণায়মান নাট্য মঞ্চ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির উন্নয়ন চালানোর ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ্দৌলা প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, এই আয়োজনের মাধ্যমে যশোরের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য ধারাকে নতুন ধারায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।