চলতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে দেশের পাঁচটি বড় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি উল্লেখ করেন, এই বছরের মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে এসব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে সরকার দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশাবাদী, চলমান বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে আমরা ধাপে ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করব।” তিনি যোগ করেন, “আগে কোন নির্বাচন হবে এবং কোনটি পরে হবে, তা নির্ধারণ হবে বাজেটের পর্যাপ্ততা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা মনে করছি, এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হলে বর্ষা মৌসুমের পরে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। বাংলাদেশে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, এবং স্থানীয় নির্বাচনগুলোও এর বাইরে নয়। এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি কোন নির্বাচন আগে হবে, এটি মূলত বাজেটের পরিমাণ ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতে বাজেট অনুমোদন হওয়ার পরেই ধাপে ধাপে এই পাঁচটি নির্বাচন কার্যক্রম শেষ করা হবে।”
গত ৫ মে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘পরবর্তী এক বছরের মধ্যে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সরকার শীঘ্রই অঙ্গিকার করছে। তবে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন গত সোমবার বলেন, “আসলে এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কখন local government election হবে। এটি দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচন, ফলে কিছু বিধি-বিধান সংস্কার প্রয়োজন। কাজ শেষ হলে আমরা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব।”
নির্বাচনের ব্যয় কত হবে তা নির্ধারণের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন তাদের ফরম্যাট অনুযায়ী বাজেট প্রস্তাব করবে। বাজেট অনুমোদন সাপেক্ষে, সেপ্টেম্বরে কিংবা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে এই পাঁচটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এর পাশাপাশি, আগে বা পরে সময় বেশকিছু সময়ের মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।”
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, “আমাদের লক্ষ্য—দেশের স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম সুসংগঠিত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে, এই জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।” তিনি বলেন, “বাজেটের অনুমোদনের সাথে সাথেই নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তররা মিলিতভাবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে।”
আগামী দিনে কয়েকটি দল ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে। বিএনপি’র প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, “অন্য দলগুলো নির্বাচন পরিকল্পনা করছে। কিন্তু যেহেতু এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে, আমাদের দলীয় সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে অংশ নেবে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, তারা আন্দোলনের প্রস্তুতিও রখেছে, ভোটের প্রস্তুতিও। আমাদের আলাদা করে কিছু করতে হবে না, প্রস্তুত থাকবো এবং নিয়ম অনুসারে নির্বাচন গ্রহণ করব।”
এমনকি, তিনি আরও জানান, দেশের সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে।









