ঢাকা | শুক্রবার | ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ফ্রেশ ধর্ষণ মামলার ফাঁসানো ইমাম

ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের এক গ্রামের ইমাম মোজাফফর আহমদ সম্প্রতি এক মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় এক মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। মামলার জঢ়াল তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় তার অপ্রাপ্ত শিশু সন্তানের সাথে কোনও জৈবিক সম্পর্ক না থাকায় আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে। এর পরেও সার্বিক পরিস্থিতিতে মানসিকভাবেই ব্যাপক ভেঙে পড়েছেন তিনি। তার মানসিক অবস্থার অবনতির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রেজা ফেসবুকে একটি পোস্টে মোজাফফরের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেলে থাকাকালীন মোজাফফর আত্মহত্যার চেষ্টায় উত্সাহিত হয়েছেন এবং দেয়ালে মাথা ঠুকে আহতও হয়েছেন। তবে, সেই সময় তিনি ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকায় তার প্রকৃত মানসিক অবস্থা বোঝা যায়নি।

তারেক রেজা আরও জানান, মোজাফফরকে তার ছোট ভাই ইমন এর বাসায় পাঠানো হয়েছিল শান্ত থাকার জন্য। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি খুব আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন। বাসার সকল জিনিসপত্র ভেঙেচুরে দেন এবং ইমন ও ইফতি নামে দুইজনের ওপর চড়াও হয়ে মারধর ও কামড় দেন। পাশের ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় ঢুকে আঘাতের চেষ্টা করেন। এসব দেখে তার ভাই ইমন দ্রুত ঘটনা এলাকায় জানান এবং আমি দ্রুত সেখানে পৌঁছাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তাকে বাধ্য হয়ে বাঁধা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ মোজাফফরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইনজেকশন দিয়ে কিছু সময় ঘুমিয়ে পড়েন। তারেক রেজা জানান, বর্তমানে তিনি তার অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে হাসপাতালে আছেন। তবে, মোজাফফরের পরিবার তার কোন সরকারি পরিচয়পত্র বা লিগ্যাল গার্ডিয়ান না থাকায় তাকে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারছেন না। তিনি জানান, মোজাফফরের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং দ্রুত তাদের আসা মাত্রই তাকে একটি ভালো হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

তারেক রেজা তরফ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয় ডাক্তার সাঈদুল আশরাফুল কুশালকে। তিনি 밤 ৪টার দিকে মোজাফফরের সাথে যোগাযোগ করলে দয়ালুতার জন্য তাকে জীবনভর বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আল্লাহর কাছে তার এই মহানুভবতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ফেনীর এক কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। গ্রেফতারির পরে তিনি ৩২ দিন কারাগারে থাকেন। এই সময়ে সমাজের চোখে হেয়প্রতিপন্ন হন, পাশাপাশি মসজিদে ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান।

তদন্তের জন্য পুলিশ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্য নেয়। সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা যায়, অভিযোগের সত্যতা নেই। এর পাশাপাশি, কিশোরী স্বীকার করে যে তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করছিল। পরিবারের সম্মান রক্ষায় এবং মূল ঘটনাকে আড়াল রাখতে, পরিকল্পনা করে তাকে অপবাদ দেয়া হয়েছিল।

১৭ এপ্রিল আদালত প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজাফফর নির্দোষ। তদন্তের ফলাফলে মোরশেদকেই মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির সাথে তার ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলেছে, যা প্রমান করে তিনি শিশুটির জৈবিক বাবা। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এভাবেই মানসিক ও শারীরিক trauma সহিংসতার শিকার মোজাফফর আহমদের জীবন এখন এক অনিশ্চয়তায় ভরা। পুরো ঘটনাপ্রবাহ ও তদন্তের পুরো চিত্রের উপর ভিত্তি করে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।