কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর দেশের আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টায় প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় জানানো হয়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হতে পারে এবং এ পরিস্থিতি কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যার পর থেকে ১৬ মে পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যেখানে কিছু কিছু স্থানে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এটি হতে পারে ক্ষণস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণও।
বিশেষ করে সিলেট বিভাগের কিছু এলাকার জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে, যা অস্থায়ী জলজমাটির সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় এই লঘুচাপটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশেপাশের অঞ্চলেও এর ব্যারোমিটার সম্প্রসারিত হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রমেঘের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার থেকেই রংপুর বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন অংশেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, এই সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে দেশের প্রায় সব এলাকায়ই খানিকদ্রুত বৃষ্টিপাত হবে, তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির ঝুঁকি বেশি। তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই লঘুচাপটি কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। যদি এটি শক্তিশালী হয়, তবে উপকূলের কোন অঞ্চল তার প্রভাবে পড়তে পারে, সেটিও তখন জানা যাবে।
অতি ভারি বর্ষণের মানে হলো প্রতিদিন ৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে বলছে, এই অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগের কিছু নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার সকাল ৯টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেই দিন সিলেট বিভাগের বেশ কিছু এলাকা আর পাশাপাশি রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থান অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলক, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কায় রয়েছে।
পরের দিন বা মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু অংশে আবার দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুতের ঝলক, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। আর অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলক, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এক সাথে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে।
বৃহস্পতিবারের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, এই সব অঞ্চলে অনেক জায়গায় আরও ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলক ও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ১৫ মে শুক্রবার, ময়মনসিংহ ও সিলেট অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু স্থানে অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলক ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির প্রত্যাশা। আবারো ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সতর্কতা জারি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।









