তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত কোনও মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিন্দুমাত্র দূরদৃষ্টিতে থাকা উচিত নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হামলা পর্যন্ত সবকিছুরই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। গত শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বপন বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তখন সরকারের সমর্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয় এবং বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে মামলায় জড়ানো হয়। তিনি আরও বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতন্ত্রমনা মানুষই নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখবেন না; সবারই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হয়। স্বপন আরও যোগ করেন, ‘জাতীয় সংসদ ইতিমধ্যে শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে, এবং জুলাইয়ে অভ্যুত্থানসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা, শাপলা চত্বরের অভিযান এবং অন্যান্য ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের ক্ষোভ একসময় সাম্যে রূপ নেয় এবং তা একত্রিত হয়েছিল। সেই ঐক্য পাকিস্তানি শাসকের পতনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফাসিবাদী শক্তির অবসান হয়।’ তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী জোট, যা তার গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের ফল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদে শাপলা শহীদদের স্মরণ করে সরকার জাতির সামনে তার দায়বদ্ধতা ব্যক্ত করেছে।’ স্বপন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির ঐক্য ছাড়া বড় কোনও লক্ষ্য সাধন সম্ভব নয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম আর জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে সকলের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’ তিনি অবশেষে বলেন, ‘দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধিকার, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধির জন্য যতটা সম্ভব ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই শহীদদের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।









