ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৬ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ৮ জন

দেশের ছয়টি জেলায় কালবৈশাখী ঝড় এবং ভারী বর্ষণের সময় বজ্রপাতে কমপক্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সবাই কৃষক ও শ্রমিক, যারা মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কেটে চলছিলেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নওগাঁ, জামালপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নাটোর জেলায় এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে নওগাঁয় তিনজন, জামালপুরে একজন, লালমনিরহাটে একজন, কুড়িগ্রামে একজন, ময়মনসিংহে একজন, এবং নাটোরে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন কৃষক মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুরের রামনগর এলাকার অনুকূল চন্দ্র, শিবগঞ্জ উপজেলার জুয়েল, ও মহাদেবপুরের কুড়াপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র বর্মণ। জানা গেছে, অনুকূল চন্দ্র ধান কাটছিলেন মাঠে, জুয়েল ধান কাটার জন্য পাশের খাসের হাট উঠাপাড়া গিয়েছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, দিলীপ চন্দ্র বর্মণের মৃত্যু ঘটে মহাদেবপুরে। এ ঘটনায় আরও দুজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন, যাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামালপুর: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেতের কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে seorang যুবক সোহেল মাহমুদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নাজিরপুর এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে। বিকেল ৪টার দিকে সোহেল ভুট্টা তুলছিলেন, হঠাৎ বজ্রসহ আকাশে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভুট্টা ক্ষেত থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে মো. ইউসুফ আলী (৩৫) নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি তিন সন্তানের জনক। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ ভোটমারী এলাকায় কাজ শেষে যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, বজ্রপাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে, সেখানে মারা যান।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নিজ জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বদিজামালপুর গ্রামের হক পরিবারের ছেলে। দুপুরে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হয়, তিনি গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ: নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটা চলাকালে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু ঘটে। তিনি চান্দু মিয়ার ছেলে। বুধবার বিকাল তিনটার দিকে বাড়ির পাশে ধান কাটার সময় আকাশে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি হামেশা বজ্রের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন, পরে স্থানীয়রা তাকে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।

নাটোর: লালপুরে বজ্রপাতে আজিজ মণ্ডল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওগাঁড়া সুলতানপুর চর এলাকায় থাকতেন। কাজের সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং শরীরের বাম পাশের বেশ বড় অংশ পুড়ে যায়। এরপর তার মৃত্যু হয়। থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।