স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি সংশোধিত বা পরিবর্তিত হয়। তিনি বলেন, সংবিধান কখনো সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয় না; বরং এর কিছু ধারা বা অংশ সংশোধন করা হয়। রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল একসাথে বসে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি আলোচনা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংশোধনের মাধ্যমে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মূল ইতিহাস এবং স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট উজ্জ্বল করা হবে এবং এটি সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না;
আলোচনায় তিনি আরো বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে কিছু আইনি প্রতারণা ও লেজিসলেটিভ ফ্রড হয়েছে, এর কিছু অংশ হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো সংসদীয় সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে ভুল ইতিহাস ও স্বাধীনতার ঘোষণা যেগুলো চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তা অবশ্যই সংশোধন বা বিলুপ্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবে গণপ্রজ্ঞা জারি করেছিলেন। এটাই প্রকৃত ইতিহাস, যার সত্যতা সংবিধানে ফেরত আনা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে বাদ পড়েছিল। জুলাই সনদে এটিতে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু কিছু দলের আপত্তির কারণে সেটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি জানান, এ নীতিটিকে পুনর্বহাল করতে তারা বদ্ধপরিকর।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। বর্তমান আন্দোলনে তিনি একটি ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চকক্ষের প্রস্তাব দেন, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিনিধিত্ব করবে অনুপাত অনুযায়ী।
বিরোধীদলে যারা আছেন তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরোধ করেন, সরকার, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা একত্রিত হয়ে এই বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করুন এবং সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা ঠিক করুন। তিনি জানান, এটি বাইরে থেকে আনা কোনো prescribed চুক্তি বা নির্দেশনায় নয়, এটি সংসদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হবে।









