প্রাচীনকালে দুর্গ বা প্রাসাদের চারপাশে নিরাপত্তার জন্য পরিখা খনন করে তাতে কুমির ছাড়ার গল্প আমরা ইতিহাসে শুনে এসেছি। এখন আধুনিক ভারতের স্বরাষ্ট্র নীতিতে এই ঐতিহাসিক কৌশলকে পুনরাবৃত্তি করতে ভাবনা শুরু হয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, সীমান্ত রক্ষার জন্য কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিএসএফ।
বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অধিকাংশ অংশ নদী ও জলাভূমি দ্বারা বেষ্টিত, যা নজরদারির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। এই জটিলতার মধ্যেই, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিএসএফ এমন অদ্ভুত কিন্তু কৌশলগত পরিকল্পনা শুরু করেছে।
একটি গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, যেখানে নদীপথ বা পাহাড়ি এলাকাগুলিতে কাঁটাতার বা বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অপারেশনের জন্য সরীসৃপ, অর্থাত্ কুমির বা সাপ মোতায়েনের ব্যাপারটি বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি মাথায় রেখেই বিএসএফ বিষয়টি যাচাই করে দেখছে।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই পরিকল্পনার ঐতিহাসিক মিল রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীন নজরদারির পদ্ধতির সঙ্গে। ফ্লোরিডার ‘অলিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে একটি ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির এবং অজগর থাকায় সেখানে থাকা বন্দিরা পালানোর সম্ভাবনা কম। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পও মেক্সিকো সীমান্তে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবার কথা বলেছিলেন, যদিও পরে সেটি শুধুই কৌতুক হিসেবে বিবেচিত হয়। এখন ভারত এই ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।
কেন এই পরিকল্পনা?
বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। ৬,২00 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে। মূলত, সেখানে নিয়োজিত ২.৬৫ লাখের বেশি কর্মী নানা অ-সীমান্তীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। অধিকাংশের বয়স ৪৫-৬০ বছরের মধ্যে, এবং অনেকের শারীরিক সক্ষমতা বেশ কম। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়, প্রকৃতিকেই একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।
সীমান্তের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা বলয়ের পরিকল্পনা
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারির প্রযুক্তি চালু। তবে, ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে এখনও প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ বা বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার অংশ নদী ও জলাভূমির কারণে অবরুদ্ধ।
এই এলাকাগুলোতেই প্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করতে সরীসৃপ মোতায়েনের বিকল্প ও কঠোর ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতে সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









