ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও না দেয়নি জবাব

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি তেল আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো বাংলাদেশের চিঠির এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সচিবালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, ‘চিঠির জবাব এখনও আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত জেলি আছে এবং কোনো জটিলতা বা সংকট নেই। আমরা মাসভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করছি। এপ্রিল পর্যন্ত সব কিছু স্বাভাবিক থাকবে এবং তেলবাহী জাহাজগুলো নিয়মিত আসছে।’

এর আগে, সোমবার (৩০ মার্চ) জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি শর্তসাপেক্ষ অনুমতি বা স্যাংশন ওভার দেয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, তখন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাসের জন্য বা ছয় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার অনুমতি চেয়েছেন।

সেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছ থেকে চিঠি চাওয়া হয়, যা তারা ঈদের আগের দিন (২২ মার্চ) দেয়। এখন বাংলাদেশের তরফ থেকে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাশিয়া থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য বিশেষ ছাড়ের অনুরোধটি ইতিবাচক বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মুখপাত্র বলেছেন, যদিও দেশের জ্বালানি সংকট নেই, তবু সব নাগরিককে ব্যয় সাশ্রয়ী হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সব দোকান, বিপণি বিতান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখতে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় দোকান এবং কাঁচাবাজার এ নিয়মের বাইরে থাকবে।

অতীতের মতো নিয়ম মানা ও সাশ্রয়ী ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।