ঢাকা | শুক্রবার | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রী যমুনাতেই নিবন্ধন করছেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে

সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ও প্রতিদিনের অফিসে সহজ যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্বাচন করেছেন। গণপরিকল্পনা অনুসারে, এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এদিকে, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে যে, সম্প্রতি পদত্যাগ ও পরিবর্তনের কারণে বেশ কিছু উপদেষ্টাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যমুনা ভবনে অবস্থান করছেন, তবে আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সেখানে থাকবেন না।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর যমুনায় থাকার ইচ্ছার কথা তিনি নিশ্চিত করেছেন। পুরোনো বাসা ছাড়ার পর, ভবিষ্যত পরিকল্পনায় তিনি এখনই যমুনা ভবনে উঠবেন না; কিছু সংস্কার ও সাজসজ্জা কাজ সম্পন্ন হলে তিনি সেখানে আসবেন।

প্রাথমিকভাবে, জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলিকে বিবেচনায় এনে প্রধানমন্ত্রীবসবাসের জন্য নতুন জায়গার সম্ভাব্যতা যাচাই চালানো হলেও, সময়ের অপ্রতুলতা এবং অন্যান্য কারণে এগুলো স্থগিত করা হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাসভবন থেকে অফিসে যান আসীন থাকেন।

উল্লেখ্য, চলতি রমজান ও ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়ন মতো আনুষ্ঠানিকতা যাতে সুন্দর ও নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য যমুনা ভবনে সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

অনেকটা সোয়া তিন একর জমির উপর অবস্থিত এই ভবন, যার পাশে ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো ভবনে বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। তারা চলে গেলে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য এই বাংলো গুলো বরাদ্দ থাকবে।

অতীতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের দিন গণভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ফলে, পরবর্তীতে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করে। চূড়ান্ত কাজ এখনও চলমান। এ পরিস্থিতিতে, এখন প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসস্থান হিসেবে যমুনা ভবনই পছন্দ নির্বাচিত হয়েছে।

উপসংহারে, গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, হেয়ার রোডে অবস্থিত বাংলো ২৪ ও ২৫ নম্বর ভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, এই এলাকা ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। সরকারিভাবে সবাই নিশ্চিত করছেন, ঈদুল ফিতরের পরে নতুন বাসায় উঠতে পারবেন। এখনই সকল প্রস্তুতি ও সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে যেন পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়।